কারখানা বন্ধ, স্থানান্তর ও হস্তান্তরঃ শ্রম আইনে শ্রমিকের পাওনা ও মালিকের দায়বদ্ধতা
১. বিপর্যয় বা আকস্মিক কারণে কারখানা বন্ধ করতে হলেঃ
যদি কোনো
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরের কোনো কারণে কারখানা স্থায়ীভাবে
বন্ধ হয়ে যায়, তবে নিম্নলিখিত নিয়মগুলো প্রযোজ্য হবে:
নোটিশঃ মালিককে ৩ (তিন) কার্যদিবসের
মধ্যে নির্ধারিত 'ফরম-১০' অনুযায়ী মহাপরিদর্শক ও মহাপরিচালককে অবহিত করতে হবে।
পাওনা পরিশোধঃ মালিক শ্রমিকদের ছাঁটাই (Retrenchment) করতে পারবেন এবং তাদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
লে-অফঃ যদি কারখানাটি পুনরায় চালু হওয়ার
সম্ভাবনা থাকে, তবে মালিক স্থায়ীভাবে বন্ধ না করে 'লে-অফ' ঘোষণা
করতে পারেন। এক্ষেত্রে শ্রমিকরা ধারা ১৬ অনুযায়ী লে-অফ বেনিফিট পাবেন।
মজুরীঃ কারখানা
বন্ধ হওয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত কর্মরত শ্রমিকরা পূর্ণ মজুরী পাওয়ার যোগ্য হবেন।
২. কারখানা বা প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করা হলেঃ
প্রতিষ্ঠান
এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিলে শ্রমিকদের ভাগ্যে কী ঘটবে, তা এখানে
স্পষ্ট করা হয়েছেঃ
১। যদি কারখানা স্থানান্তর দূরত্ব ৪০ কিলোমিটারের কম
হয় এবং শ্রমিক যেতে না চান, তবে তিনি ধারা ২৭ অনুযায়ী
স্বেচ্ছায় পদত্যাগ (Resignation)
হিসেবে গণ্য হবেন।
২। যদি দূরত্ব ৪০ কিলোমিটারের বেশি হয় এবং শ্রমিক যেতে রাজি না হন, তবে তিনি
ধারা ২০ অনুযায়ী ছাঁটাই (Retrenchment)
সুবিধা বা ক্ষতিপূরণ পাবেন।
৩। চাকরির ধারাবাহিকতাঃ যারা স্থানান্তরিত
স্থানে কাজে যোগ দেবেন, তাদের চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং শর্তাবলী
অপরিবর্তিত থাকবে।
৪। কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণঃ মালিককে স্থানান্তরের
যাবতীয় তথ্য ৭ (সাত) দিনের মধ্যে মহা-পরিদর্শক বা পরিদর্শক (কল-কারখানা
অফিস) এবং মহা-পরিচালক বা কর্মকর্তাকে (শ্রম অধিদপ্তর) জানাতে হবে।
৩. মালিকানা বা শেয়ার হস্তান্তর করা হলেঃ
কারখানা
বিক্রি বা মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিয়মগুলো হলোঃ
চাকরির সুরক্ষাঃ নতুন মালিকের অধীনে যারা কাজ
করতে ইচ্ছুক, তাদের চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
অনিচ্ছুক শ্রমিকঃ যারা নতুন মালিকের অধীনে কাজ
করতে চাইবেন না, তারা বিধি অনুযায়ী আইনগত পাওনা পাবেন।
পূর্বতন মালিকের দায়ঃ যদি নতুন মালিক শ্রমিকদের
দায়িত্ব নিতে না পারেন,
তবে হস্তান্তরের আগেই পূর্বতন মালিককে শ্রমিকদের পাওনা
পরিশোধ করে ছাঁটাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।