গ্র্যাচুইটি বনাম পদত্যাগজনিত ক্ষতিপূরণঃ আইনি বিশ্লেষণ ও পার্থক্য

গ্র্যাচুইটি বনাম পদত্যাগজনিত ক্ষতিপূরণঃ

বৈশিষ্ট্য

গ্র্যাচুইটি

পদত্যাগজনিত ক্ষতিপূরণ

মূল সংজ্ঞা

শ্রমিকের প্রতি পূর্ণ বছর বা ৬ মাসের অধিক সময়ের চাকরির জন্য প্রদেয় বিশেষ পাওনা

এটি মূলত স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারী শ্রমিকের জন্য একটি নির্দিষ্ট হারের ক্ষতিপূরণ

ন্যূনতম সময়কাল

চাকরির সময়কাল কমপক্ষে ৬ মাস বা তার বেশি হলে এটি হিসাব শুরু হয়

এই সুবিধা পেতে হলে কমপক্ষে ৩ বছর অবিচ্ছিন্নভাবে চাকরি করতে হবে

হিসাবের হার (১- বছর)

প্রতি বছর চাকরির জন্য ৩০ দিনের সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরি

৩ বছরের চাকরির জন্য মাত্র ৭ দিনের মজুরি

হিসাবের হার (-১০ বছর)

প্রতি বছর চাকরির জন্য ৩০ দিনের সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরি

৩ বছর থেকে ১০ বছরের কম চাকরির ক্ষেত্রে প্রতি বছর ১৫ দিনের মজুরি

হিসাবের হার (১০+ বছর)

১০ বছরের বেশি চাকরির ক্ষেত্রে প্রতি বছরের জন্য ৪৫ দিনের মজুরি

১০ বছর বা তার বেশি চাকরির ক্ষেত্রে প্রতি বছর ৩০ দিনের মজুরি

বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ

১. গ্র্যাচুইটি (Gratuity)

এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি পয়েন্ট আছে যা আপনাকে মনে রাখতে হবেঃ

রাউন্ডিং অফঃ যদি কেউ ৫ বছর ৭ মাস চাকরি করেন, তবে তিনি পুরো ৬ বছরের গ্র্যাচুইটি পাবেন। অর্থাৎ ৬ মাসের অতিরিক্ত সময়কে পূর্ণ বছর ধরা হয়।

বোনাস হারঃ যারা দীর্ঘদিন (১০ বছরের বেশি) একটি প্রতিষ্ঠানে সেবা দেন, আইন তাদের পুরস্কৃত করার জন্য ৪৫ দিনের মজুরি নির্ধারণ করেছে।

২. সার্ভিস বেনিফিট বা পদত্যাগ জনিত সুবিধা (Service Benefit)

এটি তখনই প্রযোজ্য হয় যখন একজন স্থায়ী শ্রমিক নিজেই পদত্যাগ করেন

  • এখানে লক্ষণীয় যে, সার্ভিস বেনিফিটের হার গ্র্যাচুইটির হারের তুলনায় কম
  • স্বার্থ সংঘাতঃ সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি গ্র্যাচুইটি স্কিম চালু থাকে এবং সেটি আইনের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক হয়, তবে শ্রমিক সেটিই পান। কিন্তু গ্র্যাচুইটি না থাকলে এই স্কেল অনুযায়ী সার্ভিস বেনিফিট প্রদান বাধ্যতামূলক
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url