শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে কল্যাণ কর্মকর্তার ভূমিকা ও দায়িত্ব
কল্যান কর্মকর্তা দায়িত্ব, কর্তব্য ও যোগ্যতা সম্পর্কে বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালায় বলা হয়েছে। এই পদটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ যাদের নিয়োগ ও চাকুরী ত্যাগের সাথে সাথে সরকারকে নোটিশ করতে হয়, যাহা অন্য কোন পদবীর ক্ষেত্রে হয় না। কল্যান কর্মকর্তা একইসাথে শ্রমিকদের "ভয়েস" এবং মালিকপক্ষের "কমপ্লায়েন্স পার্টনার" হিসাবে কাজ করে। কর্তৃপক্ষের উচিত কল্যাণ কর্মকর্তার উপর অর্পিত দায়িত্বাবলী সম্পাদনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা।
১. কল্যাণ কর্মকর্তা নিয়োগের শর্ত
- ৫০০+ শ্রমিক থাকলে একজন কল্যাণ কর্মকর্তা
নিয়োগ আবশ্যক
- প্রতি ২,০০০
শ্রমিক বা এর অতিরিক্ত অংশের জন্য আরও একজন করে নিয়োগ করতে হবে
২.
কল্যাণ কর্মকর্তার প্রধান কর্তব্যসমূহ
এই
কর্মকর্তার মূল কাজ হলো শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে
একটি সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়তা করা। তার প্রধান কর্তব্যগুলো
হলোঃ
- কমিটি গঠন ও তদারকিঃ শ্রমিকদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন কমিটি, যেমন—ওয়ার্কস
কমিটি, সেফটি কমিটি,
ক্যান্টিন কমিটি ইত্যাদি গঠনে উৎসাহিত করা এবং সেগুলোর
কাজ পর্যবেক্ষণ করা।
- সুযোগ-সুবিধা পর্যবেক্ষণঃ কারখানার ক্যান্টিন, বিশ্রামাগার, শিশুকেন্দ্র, শৌচাগার, পানীয়
জলের মতো মৌলিক সুবিধাগুলো ঠিকমতো আছে কিনা তা তদারকি করা।
- আইনগত অধিকার সম্পর্কে সচেতনতাঃ শ্রমিকদের সবেতন ছুটি, মাতৃত্বকালীন
ছুটি এবং অন্যান্য আইনগত পাওনা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা।
- সামাজিক ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নঃ শ্রমিকদের জন্য বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদনের
সুযোগ-সুবিধা এবং তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার মতো বিষয়ে নজর রাখা এবং
জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সুপারিশ করা।
- পরামর্শ প্রদানঃ নতুন শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষার
মান উন্নয়ন এবং কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি, আইন
বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া।
- যোগাযোগ ও মধ্যস্থতাঃ
- শ্রমিকদের চিকিৎসার সুবিধা
নিশ্চিত করতে মেডিকেল অফিসারের সাথে যোগাযোগ রাখা।
- শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে
কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য বা বিরোধ দেখা দিলে তা মীমাংসার জন্য মধ্যস্থতাকারীর
ভূমিকা পালন করা।
- শ্রমিকদের ব্যক্তিগত বা
দলগত কোনো অভিযোগ থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য উদ্যোগ নেওয়া।
- শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক
গড়ে তুলতে বিভিন্ন সভা, আলোচনা ও খেলাধুলার আয়োজন করা।
৩. কল্যাণ কর্মকর্তার যোগ্যতা
- শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ প্রার্থীকে কমপক্ষে স্নাতক (Bachelor's Degree) পাস হতে হবে।
- অভিজ্ঞতা ও বিশেষ জ্ঞানঃ শিল্প সম্পর্ক (Industrial Relations) এবং শ্রম কল্যাণ (Labour Welfare) বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান
থাকতে হবে।
৪. বিশেষ
অধিকার
· কল্যান
কর্মকর্তা নিয়োগ হবার বা চাকুরী ত্যাগ করার ১৫ দিনের মধ্যে মহাপরিদর্শক বা পরিদর্শককে
এবং মহাপরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে।
· কল্যান কর্মকর্তার শূন্য পদটি যত দ্রুত সম্ভব পূরণ করতে হবে।
আইনের এই
ধারাটি স্পষ্ট করে যে,
প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণ, অধিকার
রক্ষা এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য কল্যাণ
কর্মকর্তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সকলের
উচিত কল্যান কর্মকর্তাদের সাথে সহযোগীতাপূর্ণ ও ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের
কর্মপরিবেশ উন্নত করা এবং আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা।