চাকরির বয়স ও মজুরি গণনার সঠিক নিয়ম

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধার ১৪ অনুসারে চাকরি শেষে ক্ষতিপূরণ বা গ্র্যাচুইটি পাওয়ার ক্ষেত্রে 'এক বছর' বা 'ছয় মাস' চাকরি বলতে ঠিক কী বোঝায়? অনেক সময় হিসেবে ভুল হওয়ার কারণে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হন। চলুন আইনি বিষয়টি পরিষ্কার করে নেওয়া যাকঃ

১. চাকরির বয়স গণনা (ধারাবাহিকতা):

  • এক বছর: যদি কোনো শ্রমিক পূর্ববর্তী ১২ পঞ্জিকা মাসে অন্তত ২৪০ দিন কাজ করেন, তবে তিনি প্রতিষ্ঠানে 'এক বছর' অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছেন বলে গণ্য হবেন
  • ছয় মাস: যদি কোনো শ্রমিক পূর্ববর্তী ৬ পঞ্জিকা মাসে অন্তত ১২০ দিন কাজ করেন, তবে তিনি প্রতিষ্ঠানে 'ছয় মাস' কাজ করেছেন বলে গণ্য হবেন

২. কোন দিনগুলো কাজের দিন হিসেবে গণ্য হবে? অনেকে মনে করেন শুধু উপস্থিত থাকলেই কাজের দিন গণনা হয়, কিন্তু আইনের ১৪(২) ধারা অনুযায়ী নিচের দিনগুলোও ২৪০ বা ১২০ দিনের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবেঃ

  • লে-অফ (Lay-off) থাকাকালীন দিনসমূহ
  • অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার কারণে বেতনসহ বা বেতনহীন ছুটি
  • আইনসঙ্গত ধর্মঘট বা অবৈধ লকআউট (Lock-out) চলাকালীন সময়
  • মহিলা শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ১২০ দিন পর্যন্ত প্রসূতি ছুটি (Maternity Leave)

৩. ক্ষতিপূরণ গণনায় 'মজুরি' বা Wages বলতে কী বোঝায়? ইস্তফা, ছাঁটাই বা অবসরের সময় ক্ষতিপূরণ বা গ্র্যাচুইটি কোন মজুরির ভিত্তিতে হবে? আইনের ১৪(৩) ধারা অনুযায়ীঃ

  • উপাদানঃ মূল মজুরি (Basic), মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) এবং এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরি (যদি থাকে)
  • হিসাব পদ্ধতিঃ চাকরি অবসানের পূর্ববর্তী সর্বশেষ মাসিক মজুরি হিসাব করতে হবে
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url